আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব – প্রপার গাইডলাইন
ওয়েবসাইট কি ওয়েবসাইট কাকে বলেপ্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলটি আমরা লিখেছি মূলত আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল
ওয়েবসাইট তৈরি করব। বিষয়কে কেন্দ্র করে। সঙ্গে থাকছে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে
কি কি লাগে। সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্যও, যা পড়লে আপনি পুরো বিষয়টি সহজেই বুঝতে
পারবেন, ইন শা আল্লাহ।
সূচিপত্র: আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব – প্রপার গাইডলাইন
আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব
বর্তমান এই ডিজিটাল যুগে এখন ব্যবসা শিক্ষা তথ্য বিনিময় অথবা ব্যক্তিগত নিজের
পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং সবকিছুর মূল ভিত্তি হল একটি সুন্দর ও কার্যকর দৃষ্টিনন্দন
একটি ওয়েবসাইট। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি সরকারি
বেসরকারি যেগুলো কোম্পানি রয়েছে।
বা অফিস রয়েছে সব কয়টারই ব্যক্তিগত একটি করে ওয়েবসাইট রয়েছে। ওয়েবসাইট
থাকলে আপনি আপনার পার্সোনাল একটা ব্র্যান্ডিং তৈরি করতে পারবেন অনলাইনে এবং
ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।
কিন্তু অনেকের মনে একটি প্রশ্ন থেকে থাকে সেটি হচ্ছে যে কিভাবে একটি প্রফেশনাল
একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় এরকম অনেক প্রশ্ন মনের মধ্যে থেকে থাকে। আসলে
প্রফেশনাল একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা এই ডিজিটাল যুগে কোন ব্যাপারই না।
তবে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং গাইডলাইন ছাড়া আপনি কখনো প্রফেশনাল মানের একটি
ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন না যেটি আপনার দ্বারা সম্ভবই না। প্রথমে বুঝতে
হবে যে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বলতে বোঝায় এমন একটি ওয়েবসাইট যা ব্যবহারকারীর কাছে
ভিজুয়ালি আকর্ষণীয় ফাস্ট লোডিং।
এবং মোবাইল ফ্রেন্ডলি এবং এসিও ফ্রেন্ডলি এবং নিরাপদ ওয়েবসাইট হবে। যার
জন্য প্রথমে আপনাকে ডোমেইন ও হোস্টিং সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে তারপর কনটেন্ট
লিস্ট হবে আপনার ওয়েবসাইটে তারপর সাজাইতে হবে ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রফেশনাল ভাবে
তৈরি করা অত্যন্ত জরুরী।
আমার ক্ষেত্রে আমি উদাহরণ দিয়ে বলি যখন আমি ভাবি আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল
ওয়েবসাইট তৈরি করব? তখন কয়েকটি ধাপ কে অনুসরণ করতে হয় এবং গুরুত্ব দিতে
হয় যেমন প্রথমে রয়েছে ডোমেইন ক্রয় করা হোস্টিং সিলেক্ট করা।
তারপর সিএমএস যেমন ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ব্যবহার করা ওয়ার্ডপ্রেস কি এগুলো
সম্পর্কে জানা।এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন কে ব্যবহারকারীর উপযোগী ভাবে
সাজানো। আজকের এ ডিজিটাল যুগে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানানো সবচেয়ে
সহজ এবং জনপ্রিয় একটি উপায়।
আপনি যদি এখন এ আই ব্যবহার করেও একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান ওয়ার্ডপ্রেস
ওয়েবসাইট সেটি বানানো ন্যারো সেকেন্ডের কাজ। তবে যদি আপনি কোডিং জেনে থাকেন
তাহলে এর মধ্যে রয়েছে HTML, CSS, JavaScript এইগুলো কোডিং জানার পর আপনি
কোডিং করেও আপনি স্ট্রাগল করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।
যেটা হয়ে যাবে অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার স্ট্রাগল
এর ব্যাপার রয়েছে। এখন বর্তমান 2025 সালে এ আই টেকনোলজি আসার পর অনেকেই এখন
কোডিং করে ওয়েবসাইট তৈরি করেনা আর ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট আসার পর কোডিং
বর্তমানে নেই বললেই চলে।
একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে গেলে শুধু টেকনিক্যাল বিষয় নয় ব্র্যান্ডিং
কনটেন্ট ও ডিজাইনেও মনোযোগ দিতে হবে আপনি যদি ভাল মানের ব্র্যান্ডিং কনটেন্ট তৈরি
করতে না পারেন তাহলে আপনি কখনোই গুগলে টিকতে পারবেন না।
আপনাকে ভালো মানের ডিজাইনের দিকে ফোকাস দিতে হবে এবং ব্র্যান্ডিং কনটেন্ট এর
দিকেও ফোকাস দিতে হবে। যদি আপনি অনলাইনে বিজনেস করতে চান তাহলে ওয়েবসাইটের
স্পিড নিরাপত্তা ও SEO অপ্টিমাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই প্রথমে ভাবতে হবে আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন প্রফেশনাল ভাবে তখন
আমাদের নিচে দেখানো সবগুলো নিয়ম মেনে যদি আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে
ইনশাল্লাহ ভালো মানের একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।
তো চলুন আমরা নিচে দেখে নেই এবং পরে বুঝে নিই কিভাবে আমরা প্রফেশনাল ওয়েবসাইট
তৈরি করব স্টেপ বাই স্টেপ ফলো করুন।
একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে
আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যে মনে করে ওয়েবসাইট বানানো অনেক কঠিন
কাজ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে 2025 সালে এসে ওয়েবসাইট বানানো হয়ে গেছে পানির
মতো সহজ। প্রথম প্রশ্ন হল একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে প্রথমে কি কি
লাগে?
এটা সাধারণ একটি কমন প্রশ্ন আসলে প্রথমে প্রয়োজন ডোমেইন। সংক্ষেপে বলতে
গেলে ডোমেইন মানে হচ্ছে একটি নাম যে নামটি হবে আপনার ওয়েবসাইটের
নাম। অনেকেই যারা নতুন রয়েছে তারা প্রথমে বুঝতে পারবে না আসলে ডোমেইন কি
এটি খায় না মাথায় দেয়।
আসলে ডোমেইন হচ্ছে ওয়েবসাইটের ইউআরএল এ https এর পর www তারপর YourDomain
Name - এখানে বোঝার সুবিধার্থে আমি আরেকবার বলি এইচটিটিপিএস তারপর রয়েছে
www তারপর আপনার ডোমেইন নেম থাকবে যেমন ধরেন আপনার একটি ওয়েবসাইট
রয়েছে।
সে ওয়েবসাইটের নাম দিলেন আমার সোনার বাংলা তো এটি সাধারণত ইংরেজিতে হবে
amarshonarbangla এখানে সাধারণত কোন স্পেস ব্যবহার করা হয় নাই ডোমেইন নেমে
কোন স্পেস থাকবে না। তো বললামই তো https এর পর www তারপর
আপনার ডোমেইন নেম থাকবে > https://www:amarshonarbangla.com ঠিক
এইরকম।
আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। ডোমেইনের বিষয়টি গেল তারপর দরকার ওয়েব
হোস্টিং যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে অথবা ওয়েবসাইটের অনলাইন
স্টোরেজ বললেই চলে।হোস্টিং এর মান ভালো না হলে সাইটের ধীরে ধীরে লোড স্পিড কমে
যাবে।
এবং ব্যবহারকারীরা অভিজ্ঞতা খারাপ হবে। আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর এসে
বিরক্তিবোধ মনে করবে যার কারণে আপনার ওয়েবসাইটের রেঙ্ক দিন দিন ডাউন
হয়ে যাবে। তাই প্রথমে ডোমেইন নেম সিলেক্ট করতে হবে তারপর হোস্টিং ক্রয়
করতে হবে।
এছাড়া CMS (Content Management System) দরকার। এর মধ্যে WordPress সবচেয়ে
জনপ্রিয়। কারণ এটি ব্যবহার করা সহজ, এবং হাজারো থিম ও প্লাগইন রয়েছে যেগুলো
ব্যবহার করে ওয়েবসাইটকে প্রফেশনালভাবে সাজানো যায়।
একটি ভালো ওয়েবসাইটের জন্য ডিজাইন থিম, SEO প্লাগইন, এবং SSL সার্টিফিকেট
অপরিহার্য। SSL ব্যবহার করলে সাইট নিরাপদ থাকে এবং ব্যবহারকারীর বিশ্বাস বাড়ে।
অর্থাৎ, যখন আমি ভাবি আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব, তখন বুঝতে
পারি ওয়েবসাইট বানানোর জন্য ডোমেইন, হোস্টিং, CMS, ডিজাইন, সিকিউরিটি এবং কনটেন্ট
সবকিছু একসাথে লাগে।
ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে যেগুলো যানা দরকার
ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে আমরা ইতিপূর্বে উপরে আলোচনা করেই ফেলেছি যে কি কি আমাদের
দরকার তো সমস্যা নেই আমরা আগের আলোচনায় বলেছি যে কি কি দরকার তো আরো একবার করে
আমরা সুন্দর করে স্টেপে স্টেপে বুঝিয়ে বলি আপনাদের সুবিধার্থে।
যদি আপনি একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে প্রথমত কিছু বিষয় আগে
থেকে জানার দরকার। অনেকেই হুটহাট করে ডোমেইন কিনে ওয়েবসাইট বানানো শুরু করে
দেয়। তারপর অনেক সমস্যায় পড়ে যায়।
তো প্রশ্ন হল ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে আমাদের যেগুলো জানা দরকার সেগুলো কি
কি? প্রথমেই জানতে হবে যে আপনার ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য কি আপনি ওয়েবসাইটে কি
শেয়ার করতে যান এবং ওয়েবসাইটে কিরকম কনটেন্ট দিতে চান।
বা কিরকম পোস্ট লিখতে চান আপনি কি সাইট তৈরি করতে চান আপনি ই-কমার্স ওয়েবসাইট
তৈরি করতে চান বা কোন পণ্যের ক্রয় বিক্রয়ের ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান না কি তৈরি
করতে চান। প্রথমে আপনাকে ভাবতে হবে যে আপনার উদ্দেশ্য কি আপনি কি ওয়েবসাইট
তৈরি করতে চান।
উদ্দেশ্য পরিষ্কার না হলে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট এবং ডিজাইন সঠিকভাবে সাজানো যায় না।
দ্বিতীয়ত, জানতে হবে টার্গেট অডিয়েন্স। কারা আপনার সাইট ব্যবহার করবে, তারা কী
খুঁজছে এই বিষয়গুলো বুঝে নিতে হবে। তৃতীয়ত, বাজেট নির্ধারণ করা জরুরি।
অনেকে ভাবে ওয়েবসাইট খুব সস্তায় হবে। কিন্তু প্রফেশনাল সাইট বানাতে অন্তত
$100–$300 খরচ হয়। চতুর্থত, SEO পরিকল্পনা আগে থেকেই করা উচিত। সঠিক কিওয়ার্ড
রিসার্চ করে কনটেন্ট লিখলে গুগলে সহজেই র্যাঙ্ক হবে। যারা ভাবে আমি কিভাবে একটি
প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব, তাদের জন্য প্রথমেই এই বিষয়গুলো জানা জরুরি।
একটি নতুন ওয়েবসাইট বানাতে কত টাকা লাগে
আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে অবশ্যই প্রথমে জানতে হবে যে একটা
ওয়েবসাইট তৈরি করতে সাধারণত কত টাকা লাগতে পারে। তাই না? একটি
ওয়েবসাইট বানানোর খরচ নির্ভর করে আপনি কি ধরনের ওয়েবসাইট বানাতে চান।
কিসের উপর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান অনেকে ভাবে সস্তায় একটি ওয়েবসাইট তৈরি
করা যায়। আবার অনেকে অযথা অনেক খরচ করে থাকে আমার প্রশ্ন হল যে আপনি একটি
নতুন ওয়েবসাইট যখন তৈরি করবেন।
তখন অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে বুঝতে হবে যে প্রথমে আমাদেরকে কি কি করতে হবে একটু
ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আমাকে কি কি ক্রয় করতে হবে কি কি জানতে হবে এবং
লার্নিং করতে হবে।
এইগুলো যখন আপনার প্রপার ভাবে শিখা হয়ে যাবে জানা হয়ে যাবে তখন আপনি প্রস্তুতি
নিতে পারেন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য। আসলে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার
জন্য বেশি খরচ হয় না তো চলুন আমরা নিচে দেখে নেই কি রকম খরচ হয় একটি ওয়েবসাইট
তৈরি করতে।
- ব্যক্তিগত ব্লগ বা সাধারণ ওয়েবসাইট: বছরে প্রায় $50 – $100 খরচ হয়।
- প্রফেশনাল বিজনেস ওয়েবসাইট: বছরে $150 – $300 এর মধ্যে খরচ হয়।
- ই-কমার্স ওয়েবসাইট: এখানে খরচ অনেক বেশি, প্রায় $500 – $1000 পর্যন্ত লাগতে পারে।
ডোমেইন সাধারণত বছরে $10 – $15, হোস্টিং $30 – $80, আর প্রিমিয়াম থিম ও প্লাগইন
যুক্ত করলে খরচ বাড়তে পারে। যারা ভাবে আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি
করব, তাদের প্রথমেই বাজেট ঠিক করা উচিত।
এখানে আমি আপনাদের আরো একটি বিষয় ক্লিয়ার করে বলি সেটি হচ্ছে আপনি যখন একটি
ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তখন ব্লগার ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে কিন্তু খরচ
অনেকটাই কম। ব্লগার ওয়েবসাইটে হয় কি?
আপনি যখন একটি ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করবেন সেটির জন্য এক্সট্রা আপনাকে
হোস্টিং কিনতে হচ্ছে না আপনাকে গুগল ব্লগার এই একটি ডিফল্ট স্টোরেজ দিয়ে দিবে
যেখানে আপনি ব্লগ কনটেন্ট লিখে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।
এবং মানসম্মত কনটেন্ট লিখবেন যেন গুগলে ইনডেক্স হয় এবং আপনার কনটেন্ট ভালো
ব্যাংকে যায়। আর আপনি যখন ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করবেন ই-কমার্স
ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এগুলোর জন্য খরচ অনেকটা বেশি হয়ে যাবে।
তো যেগুলো ওয়েবসাইটের খরচ বেশি সেগুলো ওয়েবসাইটের ইনকাম অনেকটা বেশি এবং
সেগুলো ওয়েবসাইটের মান অনেকটা বেশি। আশা করি বিষয়টি বুঝাতে পেরেছি।
ব্লগার ওয়েবসাইট ভালো কিনা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ভালো
অনেকেই নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট শুরু করতে চান, কিন্তু প্রথমেই মনে প্রশ্ন আসে –
ব্লগার ওয়েবসাইট ভালো কিনা নাকি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ভালো? আসলে দুটি
প্ল্যাটফর্মই ভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি। ব্লগার হলো Google-এর ফ্রি
প্ল্যাটফর্ম,
যেখানে বিনা খরচে আপনি একটি সাইট বানাতে পারবেন। এটা বিশেষ করে নতুনদের জন্য
উপযোগী যারা কোনো খরচ ছাড়াই লিখতে চান, শুধু একটি Google একাউন্ট থাকলেই শুরু
করা যায়। কিন্তু ব্লগারে ফিচার সীমিত, কাস্টমাইজেশন কম এবং আপনার ওয়েবসাইটের
সম্পূর্ণ মালিকানা আপনার হাতে থাকে না।
অন্যদিকে, ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি পেশাদার কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS), যা
দিয়ে সহজেই ডাইনামিক, ফিচার-সমৃদ্ধ এবং প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
এখানে আপনি অসংখ্য প্লাগইন, থিম এবং ডিজাইনের সুবিধা পাবেন।
আরো পড়ুন: ওয়ার্ডপ্রেস কি - ওয়ার্ডপ্রেস এর সুবিধা
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে
থাকে। গুগল র্যাংকিং, SEO, ডিজাইন কাস্টমাইজেশন এবং আয়ের দিক থেকেও
ওয়ার্ডপ্রেস অনেক এগিয়ে। আপনি যদি শুধু শখের বশে ব্লগ চালাতে চান তবে ব্লগার
ভালো।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার, প্রফেশনাল ওয়েবসাইট, কিংবা ব্যবসায়িক
উদ্দেশ্যে হলে ওয়ার্ডপ্রেসই সেরা।
ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে কত টাকা খরচ হয়
ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে কত টাকা খরচ হয় – এই প্রশ্ন নতুনদের মাঝে খুবই সাধারণ।
আসলে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা বিনামূল্যে, তবে ওয়েবসাইট চালানোর জন্য কিছু খরচ
লাগবেই। প্রথমত, একটি ডোমেইন নাম কিনতে হবে, যা সাধারণত বছরে ৮-১৫ ডলারের মধ্যে
পাওয়া যায়।
এরপর হোস্টিং কিনতে হবে, যা মাসে গড়ে ৩-১০ ডলারের মধ্যে পাওয়া যায়। সুতরাং,
বছরে গড়ে ৫০-১০০ ডলার খরচ হয় একটি বেসিক ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট চালাতে।
এছাড়াও, যদি আপনি প্রিমিয়াম থিম বা প্লাগইন ব্যবহার করতে চান তাহলে অতিরিক্ত
খরচ হতে পারে।
যেমন, প্রিমিয়াম থিমের দাম সাধারণত ৩০-৬০ ডলারের মধ্যে হয়, আর কিছু প্রিমিয়াম
প্লাগইন বছরে ২০-৫০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে এসব খরচ না করেও ফ্রি থিম ও
ফ্রি প্লাগইন দিয়ে দারুণ ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব।
সাধারণ একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য বছরে কমপক্ষে ৫০-১০০ ডলার বাজেট ধরতে
হবে। তবে আপনি যদি প্রফেশনাল লেভেলের ই-কমার্স, নিউজ পোর্টাল বা কর্পোরেট সাইট
বানাতে চান, তবে বছরে ২০০-৩০০ ডলার পর্যন্ত খরচ লাগতে পারে।
ব্লগার ওয়েবসাইটে কত টাকা খরচ হয়
অনেকে মনে করেন ওয়েবসাইট বানাতে প্রচুর টাকা লাগে, কিন্তু ব্লগার ওয়েবসাইটে কত
টাকা খরচ হয় – তার উত্তর হলো, শূন্য টাকা দিয়েও আপনি একটি ব্লগার ওয়েবসাইট
চালাতে পারবেন। কারণ ব্লগার সম্পূর্ণ ফ্রি, এখানে কোনো হোস্টিং কিনতে হয়
না।
শুধু একটি Google একাউন্ট থাকলেই আপনি ব্লগার সাইট তৈরি করতে পারবেন। তবে, ব্লগার
ফ্রি হলেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি চাইলে ফ্রি সাবডোমেইন
(yourname.blogspot.com) ব্যবহার করতে পারেন,
কিন্তু যদি কাস্টম ডোমেইন (যেমন – yourname.com) ব্যবহার করতে চান তবে বছরে গড়ে
১০-১৫ ডলার খরচ করতে হবে। আর কাস্টম ডিজাইন বা প্রিমিয়াম টেমপ্লেট ব্যবহার করতে
চাইলে অতিরিক্ত ১০-৩০ ডলার খরচ হতে পারে।
অন্যদিকে, ব্লগার প্ল্যাটফর্মে সার্ভার বা স্টোরেজ নিয়ে চিন্তা করতে হয় না,
কারণ এগুলো Google ফ্রি দিয়ে থাকে। তাই যারা একদম নতুন, বিনা খরচে লেখালিখি শুরু
করতে চান, তাদের জন্য ব্লগার একটি দারুণ অপশন। তবে প্রফেশনাল ও দীর্ঘমেয়াদী
ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস অনেক বেশি কার্যকর।
ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে ডোমেইন কিনা অত্যন্ত জরুরী
একটি ওয়েবসাইট বানানোর জন্য ডোমেইন নেম অপরিহার্য। ডোমেইন ছাড়া আপনার ওয়েবসাইটকে
কেউ খুঁজে পাবে না। তাই বলা যায় ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে ডোমেইন কিনা অত্যন্ত
জরুরী। ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের অনলাইন ঠিকানা।
একটি ভালো ডোমেইন আপনার ব্র্যান্ডকে পরিচিত করতে সাহায্য করে। যেমন, আপনার
ব্যবসার নাম যদি "Tech World" হয় তবে ডোমেইন হতে পারে techworld.com। ডোমেইন
নির্বাচনের সময় খেয়াল রাখতে হবে নামটি ছোট, সহজে মনে রাখার মতো এবং ব্র্যান্ডেবল
হতে হবে। যারা ভাবে আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব, তাদের জন্য
প্রথম শর্তই হলো ডোমেইন কেনা।
ওয়েবসাইট ডোমেইন কত প্রকার হয়ে থাকে ও কি কি
ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে ডোমেইন (Domain) হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি
মূলত আপনার ওয়েবসাইটের নাম ও ঠিকানা, যার মাধ্যমে মানুষ ব্রাউজারে লিখে আপনার
সাইটে প্রবেশ করে। যেমন google.com, facebook.com, wikipedia.org এগুলো ডোমেইনের
উদাহরণ।
ডোমেইন সাধারণত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। প্রতিটি ডোমেইনের নিজস্ব উদ্দেশ্য ও
বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিচে বিস্তারিতভাবে সব প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করা হলো
1️. Top Level Domain (TLD)
টপ লেভেল ডোমেইন হলো ডোমেইনের শেষ অংশে থাকা এক্সটেনশন (.com, .org, .net
ইত্যাদি)। এগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত।
- .com > সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যবসায়িক/ব্যক্তিগত উভয়ের জন্য উপযুক্ত। যেমন amazon.com
- .org > সাধারণত অলাভজনক সংস্থা, শিক্ষা বা সংগঠনের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন wikipedia.org
- .net > নেটওয়ার্ক, টেকনোলজি, ইন্টারনেট-ভিত্তিক কোম্পানির জন্য। যেমন sourceforge.net
- .info > তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটের জন্য। যেমন travel.info
সুবিধা: বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা।
অসুবিধা: জনপ্রিয় হওয়ায় ভালো নাম পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
2️. Country Code Top Level Domain (ccTLD)
এটি হলো নির্দিষ্ট দেশের জন্য ডোমেইন। প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা কোড থাকে।
- .bd > বাংলাদেশ
- .in > ভারত
- .uk > যুক্তরাজ্য
- .us > আমেরিকা
উদাহরণ: prothomalo.com.bd, bbc.co.uk
সুবিধা: দেশের লোকাল SEO-তে অনেক ভালো ফলাফল দেয়।
অসুবিধা: শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক ব্যবহার উপযোগী।
3️. Generic Top Level Domain (gTLD)
এগুলো মূলত নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৈরি ডোমেইন।
- .edu > শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- .gov > সরকারি প্রতিষ্ঠান
- .mil > সামরিক সংস্থা
- .biz > ব্যবসার জন্য
উদাহরণ: harvard.edu, usa.gov
সুবিধা: নির্দিষ্ট সেক্টরে বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
অসুবিধা: সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।
4️. Subdomain
মূল ডোমেইনের অধীনে তৈরি আলাদা ঠিকানা।
- উদাহরণ: blog.google.com, shopify.myshopify.com
সুবিধা: বিনামূল্যে তৈরি করা যায়, যেমন blogger বা wordpress-এর ফ্রি
সাইটে।
অসুবিধা: SEO এবং ব্র্যান্ডিং-এর জন্য দুর্বল।
5️. Premium Domain
এগুলো হলো খুবই ছোট, সহজ, জনপ্রিয় নামের ডোমেইন, যা আগে থেকে রেজিস্টার করা থাকে
এবং অনেক দামে বিক্রি হয়।
- উদাহরণ: hotel.com, business.com
সুবিধা: ব্র্যান্ডিং এবং ট্রাফিকের জন্য সেরা।
অসুবিধা: দাম অনেক বেশি, অনেক সময় হাজার ডলার পর্যন্ত যেতে পারে।
6️. New gTLD (Modern Domains)
বর্তমানে অনেক নতুন ধরনের ডোমেইন এসেছে যেগুলো খুব ইউনিক এবং ভিন্ন ধরনের
ব্র্যান্ডিং করে।
- উদাহরণ: .tech, .shop, .blog, .online, .xyz
সুবিধা: নতুন এবং সহজে পছন্দমতো নাম পাওয়া যায়।
অসুবিধা: .com এর মতো এখনো বিশ্বব্যাপী ততটা জনপ্রিয় নয়।
সব মিলিয়ে ওয়েবসাইট ডোমেইন ৬ প্রকারের হয়ে থাকে:
- Top Level Domain (TLD)
- Country Code TLD (ccTLD)
- Generic TLD (gTLD)
- Subdomain
- Premium Domain
- New gTLD
আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী ডোমেইন নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি
আন্তর্জাতিক ব্যবসা করতে চান তবে .com সেরা হবে, দেশভিত্তিক হলে .bd বা .in ভালো,
আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে .edu সবচেয়ে উপযুক্ত।
ওয়েবসাইট ডোমেইন কম দামে কেনার উপায়
আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে যে ভাইয়া আসলে ওয়েবসাইট ডোমেইন কম দামে কিনার উপায়
কি কি এগুলো বিষয়ে জানতে চাই তো আমি আজকে এই আর্টিকেলে এই সেকশনে আপনাদের সবার
প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই।
এবং আপনারা কিভাবে কম দামে ডোমেইন কিনবেন এবং কোথায় থেকে ডোমেইন কিনবেন সবকিছু
ক্লিয়ার করে দেবো ইনশাআল্লাহ তো চলুন শুরু করি। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রথম
ধাপ হলো একটি ডোমেইন নাম রেজিস্টার করা।
কিন্তু অনেকেই ডোমেইন কিনতে গিয়ে বেশি খরচ করে ফেলে, আবার অনেক সময় সঠিক জায়গা
থেকে না কেনার কারণে প্রতারিতও হয়। তাই সঠিক উপায় জানা খুব জরুরি। ওয়েবসাইট
ডোমেইন কম দামে কেনার উপায় জানা থাকলে আপনি সহজেই মানসম্মত ও বিশ্বস্ত ডোমেইন
রেজিস্ট্রার থেকে আপনার পছন্দের নাম কিনতে পারবেন।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ডোমেইনের দাম নির্ভর করে এর এক্সটেনশন (.com, .net, .org
ইত্যাদি), জনপ্রিয়তা এবং কোম্পানির অফারের উপর। সাধারণত .com ডোমেইন সবচেয়ে
জনপ্রিয় এবং অনেক ক্ষেত্রে এর দাম কিছুটা বেশি হয়। তবে অফার, কুপন কোড, অথবা
প্রমোশনাল প্যাকেজ ব্যবহার করলে খুব সহজেই এটি কম দামে পাওয়া যায়।
আরো পড়ুন: ডোমেইন কাকে বলে ডোমেইন এর কাজ কি
ডোমেইন কম দামে কেনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর দাম
তুলনা করা। যেমন – Namecheap, GoDaddy, Hostinger, Bluehost, Google Domains
ইত্যাদি বিভিন্ন কোম্পানি প্রায়ই নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রথম বছরের জন্য
মাত্র ১ থেকে ৫ ডলার পর্যন্ত দামে ডোমেইন অফার করে থাকে। আবার অনেক সময় হোস্টিং
কিনলে ডোমেইন একেবারে ফ্রি দেওয়া হয়।
এটি নতুনদের জন্য চমৎকার একটি সুযোগ। এছাড়া ডিসকাউন্ট কুপন ব্যবহার করার অভ্যাস
রাখুন। অনেক ব্লগার এবং টেকনোলজি সাইটে কুপন কোড দেওয়া থাকে যা ব্যবহার করে
ডোমেইনের দাম অর্ধেক পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
তাছাড়া ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে কিংবা নববর্ষের সময়ে প্রায় সব বড়
কোম্পানি ডোমেইনে বিশেষ ছাড় দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু প্রথম বছরের দাম কম
হলেই হবে না। নবায়ন (renewal) ফি কত সেটাও যাচাই করা জরুরি।
অনেক কোম্পানি প্রথম বছরে মাত্র ১ ডলারে ডোমেইন দিলেও পরের বছর ১৫ থেকে ২০ ডলার
পর্যন্ত চার্জ করতে পারে। তাই ডোমেইন কেনার আগে অবশ্যই রিনিউয়াল চার্জ দেখে
নেওয়া উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো ফ্রি বা অবিশ্বস্ত সোর্স থেকে ডোমেইন
কিনতে যাবেন না।
কারণ ডোমেইন আপনার ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি, এটি হারালে আপনার ব্যবসা বা
কাজের বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই সর্বদা বিশ্বস্ত এবং আইসিএএনএন (ICANN) অনুমোদিত
রেজিস্ট্রার থেকে ডোমেইন কিনুন।
ওয়েবসাইট ডোমেইন কম দামে কেনার উপায় হলো সঠিক সময়ে অফার খোঁজা, কুপন ব্যবহার
করা, হোস্টিং প্যাকেজের সাথে ফ্রি ডোমেইন নেওয়া, দাম তুলনা করা এবং রিনিউয়াল
চার্জ যাচাই করা। এতে করে আপনি খুব সহজেই পছন্দের নামটি কম খরচে পেয়ে যাবেন এবং
আপনার অনলাইন যাত্রা শুরু হবে আরও সাশ্রয়ীভাবে।
ডোমেইন কিনে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট করুন সহজেই
আমরা উপরোক্ত সেকশনে সবকিছু ক্লিয়ার হয়েছি এবং এখন আমরা জানবো ডোমেইন
কিনার পর কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব আমরা নিজে নিজে সহজেই। একটি
প্রফেশনাল ওয়েবসাইট থাকা শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়,
বরং যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ওয়েবসাইট
আপনার পরিচয়, ব্র্যান্ড এবং পণ্যকে সবার সামনে উপস্থাপন করে। আর সেই ওয়েবসাইটের
প্রথম ধাপ হলো একটি ডোমেইন নাম কেনা। ডোমেইন মূলত আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা,
যেমন www.example.com। একে সহজভাবে বললে এটি আপনার ওয়েবসাইটের পরিচয়পত্র।ডোমেইন
কেনা মোটেও কঠিন কাজ নয়। বর্তমানে অসংখ্য ডোমেইন রেজিস্ট্রার যেমন Namecheap,
GoDaddy, Google Domains, Hostinger, Bluehost ইত্যাদি কোম্পানি সাশ্রয়ী দামে
ডোমেইন নাম বিক্রি করছে।
আপনি খুব সহজেই নিজের ব্র্যান্ড বা নাম অনুযায়ী একটি ইউনিক ডোমেইন নাম কিনতে
পারবেন। ডোমেইন কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামটি ছোট, সহজে মনে রাখা
যায় এমন এবং আপনার কাজের সঙ্গে মিল রেখে নির্বাচন করা।
যেমন, আপনি যদি অনলাইন শপ করতে চান তবে নামের মধ্যে shop, store, bazar ইত্যাদি
শব্দ ব্যবহার করতে পারেন।ডোমেইন কেনার পরের ধাপ হলো ওয়েব হোস্টিং। কারণ শুধু
ডোমেইন নাম থাকলেই ওয়েবসাইট চালু করা যায় না।
ডোমেইনকে হোস্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে তবেই আপনার ওয়েবসাইট অনলাইনে দৃশ্যমান হবে।
একবার ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার পর, আপনি চাইলে WordPress, Blogger, Shopify বা
অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজের ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।
WordPress বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় কারণ এটি ব্যবহার করা সহজ এবং প্রফেশনাল
ওয়েবসাইট তৈরিতে প্রচুর ফ্রি ও প্রিমিয়াম থিম/প্লাগইন ব্যবহার করা যায়। একটি
প্রফেশনাল ওয়েবসাইটের জন্য কেবল ডোমেইন কেনাই যথেষ্ট নয়, বরং ওয়েবসাইটের ডিজাইন,
কনটেন্ট,
SEO এবং সিকিউরিটি ভালোভাবে ম্যানেজ করা জরুরি। আপনি যদি ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট
তৈরি করেন, তবে SSL Certificate ব্যবহার করে ওয়েবসাইটকে সুরক্ষিত রাখুন। এছাড়াও
মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন বেছে নিন যাতে ভিজিটররা সহজেই ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে
পারে।
ডোমেইন কিনে আপনি খুব সহজেই একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। এর মাধ্যমে
আপনার ব্যবসা বা ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড বিশ্বজুড়ে পৌঁছাবে এবং অনলাইন আয়ের সুযোগ
তৈরি হবে। তাই আর দেরি না করে আজই নিজের পছন্দের ডোমেইন নাম কিনুন এবং একটি
সুন্দর প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করুন।
People Also Ask
ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে?
প্রফেশনাল সাইটের জন্য বছরে $100 – $500 খরচ হতে পারে।
ওয়েবসাইট ওপেন করার সফটওয়্যার কী?
WordPress, Joomla, Drupal, Shopify ইত্যাদি সফটওয়্যার জনপ্রিয়।
www কিভাবে তৈরি হয়?
ডোমেইন নেম সার্ভার (DNS) কনফিগারেশন ও ওয়েব হোস্টিং-এর মাধ্যমে www কাজ করে।
একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে কত টাকা লাগে?
প্রায় $500 – $1000 এর মধ্যে খরচ হতে পারে।
ওয়েবসাইটকে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
প্রফেশনাল থিম, গ্রাফিক ডিজাইন এবং ইউজার-ফ্রেন্ডলি UI ব্যবহার করা হয়।
FAQ (প্রশ্নোত্তর)
1. প্রফেশনাল ওয়েবসাইট বানাতে কত সময় লাগে?
একটি সাধারণ সাইট ২–৩ দিনে তৈরি সম্ভব, তবে বড় ই-কমার্স সাইট বানাতে কয়েক
সপ্তাহও লাগতে পারে।
2. আমি কি কোডিং না জেনেও ওয়েবসাইট বানাতে পারব?
হ্যাঁ, WordPress বা Wix ব্যবহার করলে কোডিং জানা ছাড়াও সহজে ওয়েবসাইট বানানো
যায়।
3. ওয়েবসাইট বানাতে WordPress ভালো নাকি কাস্টম কোডিং?
শুরুতে WordPress সবচেয়ে ভালো, তবে বিশেষ কাস্টমাইজেশনের জন্য কাস্টম কোডিং
দরকার হতে পারে।
4. ডোমেইন আর হোস্টিং কি আলাদা জিনিস?
হ্যাঁ, ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের নাম, আর হোস্টিং হলো সাইটের ডেটা রাখার জায়গা।
5. প্রফেশনাল ওয়েবসাইটের জন্য কোন হোস্টিং ভালো?
Hostinger, Bluehost বা SiteGround এর মতো কোম্পানির হোস্টিং ব্যবহার করা
উত্তম।
6. ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করব?
SSL সার্টিফিকেট, সিকিউরিটি প্লাগইন এবং নিয়মিত ব্যাকআপ ওয়েবসাইটকে নিরাপদ
রাখে।
7. ফ্রি ওয়েবসাইট বানানো কি ঠিক হবে?
ফ্রি ওয়েবসাইট শুরু করার জন্য ভালো, কিন্তু প্রফেশনাল কাজে ব্যবহার করা উচিত
নয়।
8. ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে কোন CMS ভালো?
WooCommerce (WordPress), Shopify এবং Magento জনপ্রিয়।
9. আমার ওয়েবসাইট কি গুগলে র্যাঙ্ক করবে?
সঠিক SEO ও মানসম্মত কনটেন্ট থাকলে অবশ্যই গুগলে র্যাঙ্ক করা সম্ভব।
10. ওয়েবসাইট ডিজাইন আপডেট করা কি জরুরি?
হ্যাঁ, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত করতে ওয়েবসাইট ডিজাইন সময় সময়ে আপডেট করা
প্রয়োজন।
আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব নিয়ে শেষ মন্তব্য
একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা আহামরি তেমন কোন কঠিন কাজ না। বরং পরিকল্পনা ও
সঠিক উপকরণ ব্যবহার করলে খুব সহজেই আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে
পারবেন। আপনারা যদি ভেবে থাকেন যে আপনি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট
তৈরি করবেন।
এ প্রশ্নের উত্তরে আমি বলব সঠিক ডোমেন হোস্টিং কিভাবে বেছে নিয়ে
ওয়ার্ডপ্রেস এর মত সহজ সিএমএস ব্যবহার করলে দ্রুত একটি মানসম্মত ওয়েবসাইট
তৈরি করতে পারবেন। আশা করি আপনারা সকল বিষয় নিয়ে আজকের আর্টিকেল পড়ে
সবকিছু জানতে পেরেছেন।
লেখকের মন্তব্য
আশা করি, আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনারা আমি কিভাবে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট
তৈরি করব। সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। যদি এই বিষয়ে আপনাদের কোনো
প্রশ্ন থাকে বা মূল্যবান মতামত জানাতে চান, তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
আর আর্টিকেলটি শেয়ার করে আপনার আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদেরও আমি কিভাবে একটি
প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করব। জানার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url